বিবাহিত কিশোরীদের কোলে বেড়ে উঠছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

স্কুলে যাওয়া বন্ধ। নেই কোন আশার আলো। তারা যেন হারিয়ে ফেলেছে নিজের সত্ত্বাকে। আসুন বিবাহিত কিশোরীদের না বলা কথাগুলোর কন্ঠ হই। তাদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালি, বাঁচার বিশ্বাস জাগাই। বিবাহিত শিশুদের পাশে আছি আমরা সবাই।

শুনি ওদের গল্প, শোনাই ওদের আওয়াজ
জানবে যত সবাই, ততই দ্রুত আলোকিত হবে তাদের জীবন

ইমেজ ফর চেইঞ্জ’ ইমেজ প্লাস প্রজেক্টের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। ইমেজ প্লাস প্রজেক্ট বাংলাদেশে বিবাহিত কিশোরীদের নিয়ে কাজ করছে। ইমেজ প্রজেক্টের পরবর্তী ধাপ ইমেজ প্লাস। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং নীলফামারী; এই তিন জেলার ছয়টি ইউনিয়নে বর্তমানে ইমেজ প্লাস তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রজেক্ট ৯০০০ বিবাহিত কিশোরীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার, পুষ্টি, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, উপার্জনমূলক কাজে অংশগ্রহন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
২৯% বিবাহিত কিশোরীর বিয়ে হয়ে যায় ১৫ বছর বয়সের আগে। উৎস: ইউনিসেফ, “স্টেট অফ ওয়র্ল্ডস চিলড্রেন ২০১৫: এক্সিকিউটিভ সামারি” নভেম্বর ২০১৪
ইমেজ প্লাস সেই লাখ লাখ কিশোরীদের জন্য যারা বিবাহিত তবুও শিশু। অল্প বয়সে বিয়ে হবার কারণে যারা বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্য দিয়ে দিন কাটায়। যে কারণে তারা কেউই সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত নয়। অথচ তাদের সন্তানেরা নির্ভরশীল তাদের ওপর। পরিবার এবং সমাজ এই বিবাহিত কিশোরীদের ওপর নির্ভরশীল। তারা পরিবার সামলায়, সন্তান লালনপালন করে, রান্না করে, ঘরদোর পরিষ্কার রাখে পাশাপাশি বয়স্ক কিংবা অসুস্থদেরও দেখা শোনা করে। তাদের দরকার মর্যাদা এবং সমর্থন।
কিশোরী মেয়েরা প্রায় রাতারাতি বিবাহিত নারীতে পরিণত হয়। বিয়ের পর তারা পরিবারের সবাইকে ছেড়ে, বাপের বাড়ি ছেড়ে বসবাস শুরু করার মধ্য দিয়ে তাদের সমাজ থেকে আলাদা ও অদৃশ্য হবার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। আর এভাবেই সমাজ থেকে আলাদা হওয়ার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য ঢুকে যায় কিশোরী মেয়েরা। বাল্যবিবাহের ক্রমবর্ধমান হারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য একটি দেশ। পাঁচটি বাল্যবিবাহপ্রবণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এখানে ৫২% মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের আগেই।
৬৫% বিবাহিত কিশোরীর বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়সের আগে। উৎস: ইউনিসেফ, “স্টেট অফ ওয়র্ল্ডস চিলড্রেন ২০১৫: এক্সিকিউটিভ সামারি” নভেম্বর ২০১৪
বাল্যবিবাহের কুফল বিষয়টি বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত। এ সম্পর্কিত নীতিমালা ও কার্যক্রম বাল্যবিবাহ রোধে জোর দিচ্ছে। যেসব মেয়েরা বাল্যবিবাহের ঝুঁকির মধ্যে আছে তাদের জন্য শিশু অধিকার আইন বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এরই মধ্যে যাদের বিয়ে হয়ে গেছে এই আইনগুলো সেসব মেয়েদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। আর ইমেজ প্লাস মূলত বিবাহিত সেসব কিশোরী মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, ইতিপূর্বে বিবাহিত কিশোরীদের ক্ষমতায়নের মধ্যেই নিহিত আছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বীজ। বিবাহিত কিশোরীরা শিশু অধিকার এবং মানবাধিকার জানার মধ্য দিয়েই জানবে, আগামী পৃথিবীতে ঠিক কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের কন্যা সন্তানেরা।
ঠাকুরগাঁও
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বাল্য বিবাহের হার সবচেয়ে বেশি। উত্তরাঞ্চলের তিনটি জেলার ৯,০০০ বিবাহিত কিশোরীদের নিয়ে কাজ করছে ইমেজ প্লাস। এই প্রকল্প বিবাহিত কিশোরী ও তাদের শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে সাথে নিয়ে কাজ করে। কারণ পরিবারই বিবাহিত কিশোরীদের অভিভাবক এবং রক্ষকের ভূমিকা পালন করে।

প্রকল্পটি পূর্ব-জ্ঞান এবং বর্তমান অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বিবাহিত কিশোরী ও তাদের পরিবারকে সাথে নিয়ে কাজ করে। তথ্য, পরিসংখ্যান, গুণগত উপাত্ত, বিবাহিত মেয়েদের জীবনের নানান ঘটনা, চ্যালেঞ্জ এবং সফলতার গল্পগুলো সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরী করা হয়েছে যার মধ্য দিয়ে প্রকল্প সম্পর্কিত ধারনা পৌঁছেছে প্রকল্প এলাকায় এবং সমগ্র দেশের জনগণের কাছে। বিবাহিত কিশোরীদের সহযোগিতার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, বিশেষ মেসেজের মাধ্যমে তথ্য পৌঁছানো হয় তাদের কাছে। যা প্রকল্পটির কার্যক্রমকে সফল করার পাশাপাশি দেশ এবং দেশের বাইরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ।

টেরেডেস হোমস ফাউন্ডেশন, এসকেএস ফাউন্ডেশন, পল্লীশ্রি: জাতীয় সচেতনতা এবং সমর্থন


নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার এবং জেন্ডার বিষয়টি নিয়ে বেশকিছুদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে মাতৃ মৃত্যুহার, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ রোধে সহযোগিতা করা।

এস কে এস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এনজিওগুলোর মধ্যে অন্যতম। সংস্থাটির প্রতিষেধক এবং নিরাময় স্বাস্থ্য বিষয়ক কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে। তাদের বেশকিছু স্যাটেলাইট ক্লিনিক আছে, যেখানে ৩০০ এর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী এবং ১৬ জন প্যারামেডিক ডাক্তার নিয়ে উত্তরাঞ্চলব্যাপি মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং যৌন ও প্রজনন সেবা দিয়ে থাকে।

নেদারল্যান্ডের টেরেডেস হোমস, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে থাকে। সংস্থাটি বিগত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। টেরেডেস হোমস বাংলাদেশের সমাজ-বাস্তবতার সাথে বেশ সুপরিচিত ফলে জাতীয় পর্যায়ের সাথে তৃণমূল পর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপনমূলক কাজগুলো তারা সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করে থাকে।

টেরেডেস হোমস ফাউন্ডেশন ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশের শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করে সংস্থাটি। যার মধ্যে আছে প্রোটেকশন, নিউট্রিশন, ওয়াটার-স্যানিটেশন এন্ড হাইজিন (ওয়াশ), হোমস্টেড গার্ডেনিং, অ্যাকোয়াকালচার, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস। ২০১৪ সালে কুড়িগ্রাম ও বরগুনা জেলার ৩৬৬,৬০০ জন মানুষ টেরেডেস হোমসের কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধা পায়।

রেডঅরেঞ্জ সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক কন্সালট্যান্সি হাউজ। যারা নিজেদের কাজের মাধ্যমে কার্যকরি মেসেজ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পৌছে গেছে সাধারন মানুষের কাছে। সংস্থাটি সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী কৌশল এর উপর ভিত্তি করে সফলভাবে আচরণ পরিবর্তনমূলক যোগাযোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনের কাজ করে থাকে। বাংলাদেশে যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতেই কাজ করে যাচ্ছে রেড অরেঞ্জ।

পল্লীশ্রী একটি জেন্ডার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা যা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষকে একত্র করে সমাজের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। উক্ত সংস্থাটি উত্তরাঞ্চলের ৭ টি উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ৪৬ টি জনগোষ্ঠী কে নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মাহমুদুল কবীর
কান্ট্রি ডিরেক্টর, টেরেডেস হোমস
ইমেজ স্টেয়ারিং কমিটি (ইমেজ পরিচালনা কমিটি)
অর্ণব চক্রবর্তী
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্‌
ইমেজ স্টেয়ারিং কমিটি (ইমেজ পরিচালনা কমিটি)
ফারহানা জেসমিন হাসান
ইমেজ প্রজেক্ট ডিরেক্টর
নকীব রাজিব আহমেদ
হেড অফ প্রগ্রামস, রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্‌
ইরিন বারটেলডস
কমিউনিকেশন অ্যান্ড এ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট
মোছাঃ ফারহানা আক্তার
রিসার্চ এন্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট স্পেশ্যালিস্ট
এস এম আশিকুর এলাহী
মনিটরিং এ্যান্ড ডকুমেনটেশন অফিসার
সাদিয়া ঋতু
ট্রেইনিং ম্যানেজার
শামসুননাহার জেসমিন
ফাইন্যান্স অফিসার
সামিউল ইসলাম
প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর