গোপনীয়তার গাইডলাইন

গোপনীয়তার গাইডলাইন

১। যে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

এই গাইডলাইন তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা ইমেজ প্লাস প্রকল্পের যেকোন যোগাযোগ কর্মকাণ্ডের (প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েব সাইটসহ অন্যান্য) সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। এছাড়াও ইমেজ প্লাস প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা, মাঠকর্মী এবংবিশেষজ্ঞদের জন্যেও এই গাইডলাইন সমানভাবে প্রযোজ্য কারণ, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বিষয়গুলো কারো জন্যই ভিন্ন নয় তা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষকর্মী অথবা পূর্ণকালীণ বা খন্ডকালীনকর্মী হউন না কেন।

২। বিধিনিষেধ

এই গাইডলাইন ও নিয়মাবলীর মাধ্যমে যোগাযোগ কর্মকাণ্ডের সময় ঘটতে পারে এরূপ সব রকমের পরিস্থিতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পভিত্তিক যোগাযোগ কর্মকাণ্ডগুলো করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো করা সঠিক এবং কোনটি সঠিক নয় তা নির্ধারণের জন্য নিজেদের কাজের জায়গা থেকে, পেশাদারী বিবেচনাকে কাজে লাগাতে হবে।বিশেষ ক্ষেত্রে অথবা গাইডলাইনের প্রয়োগ বা প্রযোজ্যতা বোঝার ক্ষেত্রে যদি কোন প্রকার দ্বিধা থাকে তবে সে বিষয়ে ইমেজ প্লাসের যোগাযোগ কর্মকাণ্ডের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে আলোচনা করা আবশ্যক। এই গাইডলাইনে প্রস্তাবিত সকল ক্ষেত্রের (স্বার্থ, সহায়িকা, সম্পৃক্ততা ইত্যাদি) তথ্যের সর্ব সত্ব ইমেজ প্লাস প্রকল্পের। যোগাযোগ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ইমেজ প্লাসের দলটি প্রকল্পভুক্ত এলাকার সাথে সম্পৃক্ত যেকোন প্রকাশনা, আলোকচিত্র ও ভিডিও ডকুমেন্টেশনসহ অন্যান্য যেকোন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সাথেও প্রয়োজনে আলোচনা করতে পারবে।

৩। ওয়েবলগ অথবা ব্লগ

ইমেজ প্লাস প্রকল্পে কর্মরত কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্লগ লিখেন বা গণমাধ্যমে কিছু প্রকাশ করতে চান তবে সেক্ষেত্রেও গোপনীয়তার গাইডলাইনে বর্ণিত বিষয়সমূহ প্রযোজ্য হবে। তবে ব্লগের বিষয়বস্তু যদি ইমেজ প্লাস সম্পর্কিত না হয় তবে সেক্ষেত্রে এই গাইডলাইন প্রযোজ্য নয়। তারপরও ইমেজ প্লাস পরিবারের সকলকে মনে রাখতে হবে, তাঁরা ইমেজ প্লাস প্রকল্পের প্রতিনিধি এবং তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন থাকা আবশ্যক।

৪। তথ্য/মতামত

সকল তথ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তথ্য, মতামত এবং বিশ্লেষণ এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য তুলে ধরতে হবে। কোন তথ্যই অপ্রাসঙ্গিকভাবে তৈরি হয় না, তথ্য বিশ্লেষণ করলে এর মাঝে নতুন মাত্রা খুঁজে পাওয়া যায়; আর সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যে মতামত সবার সামনে তুলে ধরা হয় তা যেই দৃষ্টিকোণকে তুলে ধরে তার সাথে সর্ব সাধারণ একমত নাও পারে। সব ধরনের পরিস্থিতিতেই ইমেজ প্লাস প্রকল্পের লক্ষিত জনগোষ্ঠি যেন তথ্য, বিশ্লেষণ এবং মতামতের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫। ভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ব্যবহার

ইমেজ প্লাসের বিভিন্ন প্রকাশনা, ভিডিও, সামাজিক মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্টিক্যাল ও পোস্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে তবে সেক্ষেত্রে তথ্য এবং আলোকচিত্রের উৎস বা সূত্র উল্লেখ করতে হবে।

৬। বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা এবং ভাষার ক্ষেত্রে স্পষ্টতা

যেকোন তথ্যের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সত্যতা এবং নির্ভুলতা বজায় রাখতে হবে। অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শব্দ এবং দৃশ্যকে ‘গল্পের’ সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অডিও, ভিডিও এবং লেখার ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে।

৭। গোপনীয়তার চুক্তি

ইমেজ প্লাস বিবাহিত কিশোরীদের সাথে, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে তাদের সাথে কাজ করে। অতএব, বিভিন্ন যোগাযোগ কর্মকাণ্ডের সময় এই বিবাহিত কিশোরীদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা প্রকল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইমেজ প্লাসের বিভিন্ন যোগাযোগ কর্মকাণ্ডে, বিবাহিত কিশোরীদের মুখ এমনভাবে দেখানো হবে যাতে তাদের চেনা না যায়। কোন ব্যক্তি (বিবাহিত কিশোরী, তাদের পরিবার এবং অন্যান্য) যদি জনপরিসর বা বৃহৎ জনসমাগমে না থাকেন, তবে তার ছবি ব্যবহারে সরাসরি অনুমতি প্রয়োজন হবে। জনপরিসর বা জনসমাগম বলতে সভা, সেমিনার ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে। সভা, সেমিনারে বা এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ সময়েই ব্যক্তির সরাসরি অনুমতি নেয়া কষ্টসাধ্য কিংবা অসম্ভব। এছাড়াও, এ ধরনের পরিবেশে মিডিয়ার আগ্রহ ও উপস্থিতিও আশা করা যায়। তাই ইমেজ প্লাস যারা সাক্ষাৎকার দেবেন (বিবাহিত কিশোরী, তাদের পরিবার এবং অন্যান্য) তাদের সাথে একটি পরিষ্কার গোপনীয়তা সুরক্ষার চুক্তি করবেন। তাদের ভিডিও, সাক্ষাৎকার নেয়ার এবং ছবি তোলার আগে অনুমতি নেয়া হবে। তাদের বক্তব্য এবং ভিডিও কিভাবে ব্যবহার করা হবে সেটাও তাদেরকে স্পষ্ট করে জানানো হবে।

৮। অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের ব্যবহার

কমিউনিকেশন টুলে অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের ব্যবহার যথাসম্ভব পরিহার করার চেষ্টা করা হবে। নাম অথবা তথ্যের উৎস বা সূত্র প্রকাশ যদি ঝুঁকিপূর্ন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তথ্য দাতার নাম গোপন করা হবে। যদি তথ্য সূত্র প্রকাশ করা না হয়, তাহলে কেন তা প্রকাশ করা হচ্ছে না সেই মর্মে পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকতে হবে।

৯। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষা

প্রচার মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষিত হলে তার ফলাফল কী হতে পারে, বিশেষ করে বিবাহিত কিশোরীদের এবং তাদের পরিবারকে কী ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, সেই বিষয়ে ইমেজ প্লাস যথেষ্ট সচেতন। সব ধরনের যোগাযোগ কর্মকাণ্ডে, কারো পরিচয় প্রকাশ করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ন সেই সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার পরিচয় প্রকাশ পেলে তাদের জন্য সেটা কতটা ঝুঁকিপূর্ন হতে পারে সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।

১০। ইমেজ প্লাস আইন মেনে চলে

তথ্য সংগ্রহ করার সময়, ইমেজ প্লাস সবসময় আইন মেনে চলবে। আইনগত নানান বিধিনিষেধ যেমন: ‘যথার্থ নয় বা যুক্তিসঙ্গত নয় এমন আচরণ’, ‘অবমাননাকর ভাষার ব্যবহার’ ইত্যাদি এই গাইডলাইনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।


সকল সত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০১৯

নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে বিবাহিত শিশুদের প্রকৃত নাম ও ছবি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
‘শিশুর সুরক্ষা সম্পর্কিত নীতি’ জানতে এখানে ক্লিক করুন।