আরও পড়ুন
আমার বিয়ে হওয়ার পর আমি ঠিকমতো নিজেকে সামলাতে পারিনা এবং সামলাতে অক্ষম তখন আমার উপর চাপিয়ে দেয় শশুর বাড়ীর দায়িত্বের বোঝার ভার। আমার জীবন এখন সংসারের চৌকাঠে বন্দি পারিনা মুক্ত ভাবে বাঁচতে। তবুও বাঁচতে শিখেছি আমার সন্তানের জন্য কেনানা ও আমার সাথে যেটা হয়েছে আমি তার আঁচ পর্যন্ত আমার সন্তানের গায়ে লাগতে দেবনা। বাল্যবিবাহের কারনে আমি আজ সমাজের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছি। পারছি না আমার পক্ষ থেকে সমাজকে কিছু দিতে। আর আমার স্বামীও তেমন সচেতন ব্যক্তি নন যে আমার প্রতি তার একটা টান থাকবে। বিবাহ করে এনেছে ঠিক কিন্তু এনে আমার কাধে সংসারের বোঝা তুলে দিয়ে ও শুধু সারাদিন ক্ষেতে ক্ষেতে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি সন্তানের সব চাহিদা আমাকেই পুরন কুরতে হয়। বাবা হিসেবে যেন সন্তানের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই তার। আমার জীবনটা এমন একটা পরিস্থিতিতে এসে পৌছাবে আমি কখনো ভাবিনি। ভাবতে বড় অবাক লাগে একটা মেয়ে তার বাবা-মা বাড়ি ঘর সবকিছু ছেড়ে এ অন্য একটা পরিবারে আসে তখন সেই পরিবারের লোকেরা তাকে, তাদের সাথে মানিয়ে নেয়ার বদলে তার উপর এভাবে নির্যাতন করে। এরকম পরিস্থিতিতে এ আমার মনে হয় কেন বেঁচে আছি পৃথিবীতে। অনেক স্বপ্ন ছিলো আমার এ লেখাপড়া করে একদিন মানুষের মত মানুষ হব নিজের পায়ে দাড়াব কারো উপর নির্ভর করে আমি চলব না। নিজের জীবনটাকে নিজের মতো করে সাজাব কিন্তু আমার সব স্বপ্ন মুকুলেই ঝরে গেছে। বাবা-মা আমাকে বিয়ে দিয়ে। এখন অবশ্য বাবা-মা ও বুঝতে পারছে কেন তারা তাদের মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিয়ে তার জীবনটা এভাবে নষ্ট করে দিল। আমার সারাদিন সাংসারিক কাজের ফাঁকে যদি একটু বিশ্রাম করতে যাই তাতেই আমার শ্বাশুড়ির গায়ে যেন আগুন লাগে আমি বিশ্রাম করব এটা যেন তার সহ্য হয় না।