ইমেজ প্রকল্পের সফল যাত্রা

ইমেজ প্রকল্পের সফল যাত্রা

April 10, 2018

বাল্য-বিবাহের শিকার কিশোরীদের সাহায্যে কাজ করা দেশের প্রথম পদক্ষেপ ‘ইমেজ’। প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় (সালের…)২৩ জুন মঙ্গলবার, ঢাকায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সাঈদ মঞ্জুরুল ইসলাম। বিবাহিত কিশোরী মেয়েদের ক্ষমতায়নে নেয়া এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। তার মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেয়া অন্যান্য উদ্যোগের সাথে কাজ করলে বিষয়টি আরো বেশি কার্যকর হবে।

স্বাস্থ্য সচিব এটাও জানান, বাল্যবিবাহের বিষয়টি সরকারের অন্যতম উদ্যেগের কারণ, বিষয়টি মেয়েদের স্বাবলম্বী হবার সুযোগকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে ৩০% এর ও বেশি মেয়ে অল্প বয়সেই মা হয়। এদের মধ্যে এক চতুর্থাংশ মেয়ে দ্বিতীয় সন্তানটিও নেয় কিশোরী বয়সেই। তিনি বলেন, ‘তারা এমন সময়ে মা হচ্ছে, যখন জীবন সম্পর্কে জানার জন্য আরো বেশি পরিপক্ব হওয়া দরকার’।

‘ইমেজ’ ৪,৫০০ বিবাহিত কিশোরীকে নিয়ে কাজ করে, তাদের যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারগুলি সম্পর্কে জানতে এবং বুঝতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি প্রকল্পটি জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রচারণা অভিযান পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ যেখানে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। ইউনিসেফের তথ্য মতে, প্রতি তিনজন কিশোরীর মধ্যে দুইজনেরই বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের আগে। এই হার দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যান্য দেশে এই হার ৪৮%, বাংলাদেশে এই হার ৬৫%।

বাংলাদেশ জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বেশ কিছু ছোট বড় উদ্যোগ রয়েছে। বিবাহিত কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কাজ করা ইমেজ প্রকল্প সেই সব ধারণার বাইরে গিয়ে কাজ করছে নতুন উদ্যমে। নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান, ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে নারীর ক্ষমতায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়, বিষয়টির উপর জোর দিয়ে কাজ চলছে, যার নেতৃত্বে আছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে চারটি বিষয়কে চিহ্নিত করেন, এগুলো হলো দারিদ্র্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানসিকতা। তবে নির্দিষ্ট বয়সের আগে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার বিষয়টি বন্ধ করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তবে এটি একরাতের মধ্যে, হুট করে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য সূচকগুলির মধ্যে এটি যেমন একটি সফলতা পাশাপাশি এটি একটি ব্যর্থতাও বটে, বাংলাদেশ সেই অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যা, শিশু এবং মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস করতে পেরেছে। তিনি আরো যোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে পুরোদমে কাজ চলছে, ২০৪১ সালের মধ্যেই বাল্যবিবাহ একেবারে বন্ধ করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।

ইমেজ, পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে চায় এবং সেই পরিবর্তনের জন্য কিছু নির্বাচিত বার্তা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার প্রকল্প এলাকার বিবাহিত কিশোরীদের জন্য শুধু নয়, বরং তাদের স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরী, বাবা-মা ও সমাজের লোকেদের জন্য নির্বাচন করা হয়।

নতুন যাত্রার জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় ঢাকার স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Martine van Hoogstraten, Charge d’Affaires, Embassy of the Kingdom of the Netherlands এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।


msac2017


সকল সত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০১৯

নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে বিবাহিত শিশুদের প্রকৃত নাম ও ছবি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
‘শিশুর সুরক্ষা সম্পর্কিত নীতি’ জানতে এখানে ক্লিক করুন।